টাকাহিসাবTakaHisab

ডিপিএস ক্যালকুলেটর

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ · ক্যালকুলেটর বিনামূল্যে

প্রতি মাসে কত টাকা জমাবেন, সুদের হার কত এবং কত বছরের জন্য, এই তিনটি জানালেই মেয়াদ শেষে কত টাকা হাতে আসবে তা দেখা যাবে। কর বাদ দিয়ে হিসাবও পাবেন।

তথ্য দিন

আপনার ব্যাংকের বর্তমান হার লিখুন। হার ব্যাংকভেদে আলাদা।
ব্যাংকের স্কিম ব্রোশিওরে এটি লেখা থাকে। না জানলে ত্রৈমাসিক রাখুন।
টিআইএন আছে কি না এবং বর্তমান নিয়মে হার বদলায়। ব্যাংক থেকে যাচাই করুন। কর বাদ না দিতে ০ লিখুন।

ফলাফল

কর বাদে মেয়াদ শেষে পাবেন
—
মোট জমা—
মোট সুদ—
উৎসে কর—
কর বাদে সুদ—
বছরভিত্তিক হিসাব দেখুন
সময়জমাকর-পূর্ব মোট

এটি আনুমানিক হিসাব। ব্যাংকের নিয়ম, আবগারি শুল্ক ও ফি বাদ পড়তে পারে, তাই চূড়ান্ত অঙ্ক ব্যাংকের কাছে যাচাই করুন।

ডিপিএস কী

ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) হলো ব্যাংকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রেখে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সুদসহ একসাথে তুলে নেওয়ার সঞ্চয় পদ্ধতি। যাঁদের একসাথে বড় অঙ্কের টাকা নেই, কিন্তু প্রতি মাসে কিছু জমানোর সামর্থ্য আছে, তাঁদের জন্য এটি উপযোগী। সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে, বাড়ির ডাউন পেমেন্ট বা অবসরের পুঁজি গড়তে অনেকে ডিপিএস বেছে নেন।

কীভাবে হিসাব করা হয়

এই ক্যালকুলেটর ধরে নেয় আপনি প্রতি মাসের শুরুতে জমা দেন। প্রতি মাসে জমা ব্যালান্সের ওপর বার্ষিক হার ÷ ১২ হারে সুদ জমতে থাকে। আপনার বেছে নেওয়া নিয়ম অনুযায়ী (মাসিক, ত্রৈমাসিক ইত্যাদি) সেই সুদ মূল ব্যালান্সের সাথে যোগ হয়, ফলে পরের সময়ে সুদের ওপরও সুদ আসে।

মাসিক চক্রবৃদ্ধির সরল রূপ:
মেয়াদ শেষে প্রাপ্তি ≈ জমা × [((১ + i)n − ১) ÷ i] × (১ + i)
এখানে i = বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০ এবং n = মোট মাস

এরপর মোট সুদের ওপর আপনার দেওয়া উৎসে কর-এর হার বাদ দিয়ে "কর বাদে প্রাপ্তি" দেখানো হয়।

উদাহরণ

মাসে ৫,০০০ টাকা, ৮% সুদ, ৫ বছর মেয়াদে মোট জমা হবে ৩,০০,০০০ টাকা। সুদসহ মেয়াদ শেষের অঙ্ক ওপরের ক্যালকুলেটরে সাথে সাথে দেখতে পাবেন। সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধির নিয়ম বদলে ফলাফলের পার্থক্য তুলনা করুন।

ফলাফল নিয়ে যা মনে রাখবেন

  • ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা। কোনো ব্যাংক ত্রৈমাসিক, কেউ মাসিক হারে সুদ যোগ করে। স্কিমের শর্ত দেখে ঠিক অপশনটি বেছে নিন।
  • উৎসে কর: সুদের ওপর কর কাটা হয় এবং হার বদলাতে পারে। সর্বশেষ নিয়ম জানতে এনবিআর বা আপনার ব্যাংকের শাখায় জিজ্ঞাসা করুন।
  • আবগারি শুল্ক: নির্দিষ্ট ব্যালান্সের ওপর বছরে শুল্ক কাটতে পারে। এই ক্যালকুলেটর তা ধরে না।
  • কিস্তি মিস করলে: বেশিরভাগ ব্যাংক জরিমানা নেয় এবং একাধিক কিস্তি বাদ গেলে সুদে প্রভাব পড়ে।
  • মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙলে: সাধারণত কম সুদ মেলে। শর্ত আগে জেনে নিন।

ডিপিএস খোলার আগে যা দেখে নেবেন

  1. সুদের হার কি নির্দিষ্ট (ফিক্সড), নাকি সময়ে বদলাতে পারে।
  2. সুদ কত পরপর যোগ হয়।
  3. মাসের কোন তারিখের মধ্যে কিস্তি দিতে হয় এবং জরিমানা কত।
  4. মেয়াদের আগে ভাঙলে বা ঋণ নিলে কী নিয়ম।
  5. ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না।

ডিপিএস না এককালীন এফডিআর, কোনটি আপনার জন্য ভালো তা তুলনা করতে এফডিআর ক্যালকুলেটর দেখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ডিপিএসে কত টাকা দিয়ে শুরু করা যায়?

ন্যূনতম অঙ্ক ব্যাংকভেদে আলাদা। অনেক ব্যাংকে মাসে কয়েকশ থেকে শুরু করা যায়। আপনার ব্যাংকের স্কিম দেখুন।

ডিপিএসের সুদ কি নির্দিষ্ট থাকে?

কিছু স্কিমে হার মেয়াদজুড়ে নির্দিষ্ট থাকে, কিছুতে বাজার অনুযায়ী বদলাতে পারে। খোলার সময় ব্যাংকের কাছে লিখিতভাবে জেনে নিন।

ক্যালকুলেটরের অঙ্ক কি ব্যাংকের অঙ্কের সাথে হুবহু মিলবে?

না-ও মিলতে পারে। ব্যাংক দিন ধরে সুদ গণনা করে এবং শুল্ক ও ফি আলাদা করে। এটি আপনাকে একটি ভালো আনুমানিক ধারণা দেয়।

ডিপিএসের সুদের ওপর কি কর দিতে হয়?

সাধারণত ব্যাংক সুদ থেকে উৎসে কর কেটে রাখে। হার নির্ভর করে চলতি নিয়ম ও আপনার টিআইএন আছে কি না তার ওপর। ক্যালকুলেটরে নিজের হার বসিয়ে দেখুন।

মেয়াদ শেষে টাকা না তুললে কী হয়?

ব্যাংকভেদে স্কিম নবায়ন হতে পারে বা টাকা সঞ্চয় হিসাবে জমা থাকে, যেখানে সুদের হার কম। মেয়াদ শেষের আগেই ব্যাংকে কথা বলুন।

সূত্র

দাবিত্যাগ: এটি আর্থিক পরামর্শ নয়। বিস্তারিত দাবিত্যাগ পাতায়।

আরও ক্যালকুলেটর