ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন: অনলাইনে ধাপে ধাপে
টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দেওয়া ১২ সংখ্যার পরিচয় নম্বর। এটি অনলাইনে নেওয়া যায় এবং ই-টিআইএন সনদ ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়।
টিআইএন কেন লাগে
- আয়কর রিটার্ন জমা দিতে।
- অনেক ব্যাংক, সরকারি সেবা ও লাইসেন্সের আবেদনে এটি দেখাতে হয়, যেমন ব্যাংক ঋণ, গাড়ি নিবন্ধন বা ব্যবসার লাইসেন্স।
- টিআইএন থাকলে ব্যাংক সুদের ওপর উৎসে কর কম হারে কাটে বলে অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত। হার বদলায়, তাই আপনার ব্যাংকে জিজ্ঞাসা করুন।
টিআইএন থাকা মানেই কর দিতে হবে, এমন নয়। আয় করছাড়ের সীমার নিচে হলেও রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম আছে কি না, তা এনবিআরের চলতি নিয়মে দেখুন।
যা যা লাগবে
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্মতারিখ। এনআইডি না থাকলে পাসপোর্ট নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগে।
- আপনার নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
- ইমেইল ঠিকানা।
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং আয়ের উৎসের মূল তথ্য।
ধাপে ধাপে ই-টিআইএন নেওয়ার নিয়ম
- এনবিআরের অফিসিয়াল পোর্টালে যান। ই-টিআইএনের পোর্টাল হলো
secure.incometax.gov.bd। ঠিক ঠিকানা নিশ্চিত হতে nbr.gov.bd থেকে লিংকটি খুলুন। ভুয়া সাইট থেকে সাবধান। - অ্যাকাউন্ট খুলুন। "রেজিস্টার" বেছে নিয়ে মোবাইল নম্বর দিন। এসএমএসে আসা কোড দিয়ে নম্বর যাচাই করুন এবং পাসওয়ার্ড দিন।
- লগইন করে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন। এনআইডি নম্বর, নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা দিন। এনবিআর আপনার তথ্য নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ডাটাবেসের সাথে মিলিয়ে দেখে।
- তথ্য ভালো করে পড়ে জমা দিন। নাম বা জন্মতারিখে ভুল থাকলে পরে সংশোধন ঝামেলার।
- সনদ ডাউনলোড করুন। তথ্য মিললে ই-টিআইএন সনদ তৈরি হয়। পিডিএফ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন এবং ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিরাপদে রাখুন।
পোর্টালের ধাপ ও ফর্ম সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। এখানে সাধারণ প্রক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। সমস্যায় এনবিআরের হেল্পলাইন বা নিকটস্থ কর অফিসে যোগাযোগ করুন।
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
- এসএমএস কোড না এলে: নম্বরটি আপনার নামে নিবন্ধিত কি না দেখুন। একই নম্বর বারবার চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ পরে আবার দিন।
- এনআইডির তথ্য না মিললে: নামের বানান, জন্মতারিখের ফরম্যাট ও বাবা-মায়ের নাম এনআইডি অনুযায়ী লিখুন।
- আগে থেকে টিআইএন থাকলে: নতুন করে নেওয়ার দরকার নেই। রিটার্ন বা সেবার জন্য আগের নম্বরই চালু করুন।
কারও কাছে টাকা দেবেন না
সরকারি পোর্টালে ই-টিআইএন নিতে আপনাকে কোনো ফি দিতে হয় না। দালাল বা কোনো ওয়েবসাইট টাকা চাইলে সতর্ক হোন। নিজে অনলাইনে করা সবচেয়ে নিরাপদ।
টিআইএন পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপ
আয় থাকলে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে হয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম গাইড।
সূত্র
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। দাবিত্যাগ দেখুন। আমরা কীভাবে তথ্য যাচাই করি, তা জানতে সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।