টাকাহিসাবTakaHisab

ট্যাক্স ও টিআইএন

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম: প্রস্তুতি থেকে জমা পর্যন্ত

লেখক: টাকাহিসাব সম্পাদকীয় · প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬

আয়কর রিটার্ন হলো এক বছরের আয়, সম্পদ ও কর পরিশোধের হিসাব এনবিআরকে জানানোর ফর্ম। প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইনে করা যায়। এখানে সাধারণ ধাপগুলো দিলাম। করের হার, করমুক্ত আয়সীমা ও ছাড় প্রতি বছর বাজেটে বদলায়, তাই এখানে সেসব অঙ্ক দিইনি। সর্বশেষ নিয়ম এনবিআরের ঘোষণায় দেখুন।

কখন জমা দিতে হয়

সাধারণ নিয়মে ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন জমার শেষ দিন প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর, যা আগের জুন মাসে শেষ হওয়া আয়বছরের জন্য। তবে সময়সীমা বাড়ানোর নজিরও আছে। ২০২৫–২৬ কর বছরের জন্য এনবিআর সময় একাধিকবার বাড়িয়েছিল। এ বছরও বাড়বে কি না নিশ্চিত নয়, তাই এনবিআরের ঘোষণার ওপর নির্ভর করুন, আগে থেকে ধরে নেবেন না।

এনবিআর আগে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে বিনিয়োগজনিত করছাড়সহ কিছু সুবিধা মেলে না। তাই সময়মতো জমা দেওয়াই নিরাপদ।

প্রস্তুতি: কী কাগজ লাগবে

  • ই-টিআইএন সনদ (না থাকলে আগে ই-টিআইএন নিন)।
  • বেতনভোগী হলে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বেতনের সনদ বা পে-স্লিপ।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সুদের সনদ, যেখানে উৎসে কর কাটার তথ্য থাকে।
  • বিনিয়োগের প্রমাণ, যেমন সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বিমার প্রিমিয়ামের রসিদ।
  • সম্পত্তি ও দায়ের তথ্য, যেমন জমি, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব, ঋণ।
  • উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে তার সনদ।

ধাপে ধাপে জমা

  1. এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন সেবায় লগইন করুন। পোর্টালের লিংক nbr.gov.bd থেকে নিন।
  2. আয়ের বিবরণ দিন। বেতন, ব্যবসা, ভাড়া, সুদ ও অন্যান্য আয় আলাদা অংশে লিখতে হয়।
  3. ছাড় ও বিনিয়োগ যোগ করুন। প্রযোজ্য বিনিয়োগের তথ্য দিলে সিস্টেম নিয়ম অনুযায়ী ছাড় হিসাব করে।
  4. সম্পদ ও দায়ের বিবরণ পূরণ করুন।
  5. প্রদেয় কর দেখুন। কাটা কর বাদ দিয়ে আরও কর দিতে হলে চালান বা অনলাইনে পরিশোধ করুন।
  6. জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ডাউনলোড করুন। এটি যত্নে রাখুন, ব্যাংক বা ভিসার আবেদনে লাগতে পারে।

সাধারণ ভুল

  • বছরের সব আয়ের উৎস না দেওয়া, যেমন ব্যাংক সুদ বা ভাড়া।
  • উৎসে কাটা করের সনদ না রাখা।
  • সম্পদের তথ্য এক বছর থেকে আরেক বছরে অমিল থাকা।
  • শেষ দিনের জন্য ফেলে রাখা, কারণ তখন পোর্টাল ব্যস্ত থাকে।

নিজে করবেন, না কর পরামর্শক নেবেন

শুধু বেতনের আয় থাকলে অনেকে নিজেই করেন। ব্যবসা, ভাড়া, বিদেশি আয় বা একাধিক উৎস থাকলে কর আইনজীবী বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া ভালো। এনবিআরের কর মেলায় কর্মকর্তারাও সাহায্য করেন।

রিটার্ন জমার পর

পরের বছর আবার একই প্রক্রিয়া। টিআইএন সক্রিয় রাখুন এবং বছরজুড়ে বিনিয়োগ ও কর পরিশোধের রসিদ এক ফোল্ডারে রাখুন, তাহলে রিটার্নের সময় ঝামেলা কমে।

সূত্র

এটি কর পরামর্শ নয়। আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতির জন্য কর পরামর্শকের সাথে কথা বলুন।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। দাবিত্যাগ দেখুন। আমরা কীভাবে তথ্য যাচাই করি, তা জানতে সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।