টাকাহিসাবTakaHisab

ব্যাংকিং ও লোন

ব্যাংক লোনের ইএমআই কীভাবে হিসাব করবেন: ধাপে ধাপে

লেখক: টাকাহিসাব সম্পাদকীয় · প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে প্রতি মাসে একই অঙ্কের কিস্তি দিতে হয়, যার নাম ইএমআই (ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট)। ঋণ নেওয়ার আগে এই কিস্তি নিজে হিসাব করতে পারলে ব্যাংকের দেওয়া অঙ্ক যাচাই করা যায় এবং আপনার বাজেটে মানাবে কি না বোঝা যায়।

ইএমআইয়ের সূত্র

ইএমআই = P × r × (১ + r)n ÷ [(১ + r)n − ১]
  • P = ঋণের আসল অঙ্ক
  • r = মাসিক সুদের হার, অর্থাৎ বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০
  • n = মোট কিস্তির সংখ্যা, অর্থাৎ মেয়াদ বছরকে ১২ দিয়ে গুণ করলে পাওয়া মাস

একটি পূর্ণ উদাহরণ

ধরুন ৫,০০,০০০ টাকা ঋণ, বার্ষিক সুদ ১০% এবং মেয়াদ ৩ বছর।

  1. মাসিক হার r = ১০ ÷ ১২ ÷ ১০০ ≈ ০.০০৮৩৩
  2. কিস্তির সংখ্যা n = ৩ × ১২ = ৩৬
  3. সূত্রে বসালে ইএমআই ≈ ১৬,১৩৪ টাকা
  4. ৩৬ কিস্তিতে মোট পরিশোধ ≈ ৫,৮০,৮০৯ টাকা
  5. অর্থাৎ মোট সুদ ≈ ৮০,৮০৯ টাকা

কিস্তির ভেতরে আসল ও সুদ

প্রতিটি কিস্তির কিছুটা অংশ সুদ, বাকিটা আসল শোধ। উপরের উদাহরণে প্রথম মাসে:

  • সুদ = ৫,০০,০০০ × ০.০০৮৩৩ ≈ ৪,১৬৭ টাকা
  • আসল শোধ = ১৬,১৩৪ − ৪,১৬৭ ≈ ১১,৯৬৭ টাকা
  • নতুন বকেয়া ≈ ৪,৮৮,০৩৩ টাকা

পরের মাসে সুদ এই কমে যাওয়া বকেয়ার ওপর ধরা হয়, তাই সুদের অংশ ধীরে ধীরে কমে এবং আসলের অংশ বাড়ে। কিস্তি একই থাকে। শুরুর দিকে কিস্তির বড় অংশ সুদে যায়, এ কারণেই ঋণ আগে শোধ করলে বেশি সুদ বাঁচে।

ফ্ল্যাট রেট থেকে সাবধান

কিছু প্রতিষ্ঠান "ফ্ল্যাট রেট" বলে, যেখানে সুদ শুরুর পুরো আসলের ওপর শেষ পর্যন্ত ধরা হয়। একই ১০% শুনতে এক হলেও ফ্ল্যাট রেটে প্রকৃত খরচ অনেক বেশি। তাই ঋণের আগে জিজ্ঞাসা করুন, সুদ কি বকেয়া আসলের ওপর (রিডিউসিং ব্যালান্স), নাকি ফ্ল্যাট? ফ্ল্যাট রেটকে সমতুল্য রিডিউসিং হারে রূপান্তর করে আমাদের ক্যালকুলেটর দেখাতে পারে।

ঋণ নেওয়ার আগে পাঁচটি প্রশ্ন

  1. কিস্তি কি আমার আয়ের তুলনায় বহনযোগ্য? সব ঋণের মাসিক কিস্তি মিলিয়ে আয়ের একটা সীমিত অংশ রাখা নিরাপদ। সংখ্যাটি নিজের খরচ দেখে ঠিক করুন।
  2. প্রসেসিং ফি, বিমা ও অন্য খরচ কত? শুধু সুদের হার দেখলে ভুল হবে, মোট খরচ দেখুন।
  3. হার স্থির না পরিবর্তনশীল? ভাসমান হারে কিস্তি বাড়তে পারে।
  4. আগাম শোধে কোনো ফি আছে কি?
  5. কিস্তি দিতে দেরি হলে জরিমানা কত?

মেয়াদ বাড়ালে কী হয়

মেয়াদ বাড়ালে মাসিক কিস্তি কমে, কিন্তু মোট সুদ বাড়ে। কম কিস্তিতে স্বস্তি পাওয়া যায়, তবে অনেক বেশি টাকা শেষ পর্যন্ত যায় সুদে। সম্ভব হলে বাজেটে কুলোয় এমন সবচেয়ে ছোট মেয়াদ বেছে নিন।

সংক্ষেপে

সূত্র মনে রাখার দরকার নেই, তবে ধারণাটি জানা জরুরি: কিস্তি এক থাকে, সুদ শুরুতে বেশি, আসল পরে বেশি। নিজের ঋণের অঙ্ক বসিয়ে বছরভিত্তিক হিসাব দেখতে আমাদের ইএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

সংশ্লিষ্ট ক্যালকুলেটর

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। দাবিত্যাগ দেখুন। আমরা কীভাবে তথ্য যাচাই করি, তা জানতে সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।