টাকাহিসাবTakaHisab

লোন ইএমআই ক্যালকুলেটর

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ · ক্যালকুলেটর বিনামূল্যে

ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ি, বাড়ি বা ব্যবসার ঋণ নেওয়ার আগে মাসিক কিস্তি কত হবে এবং মোট কত সুদ দিতে হবে, এখানে দেখে নিন। ফ্ল্যাট রেটে ঋণ নিলে প্রকৃত সুদের হার কত দাঁড়ায়, সেটাও দেখাবে।

তথ্য দিন

৬ মাসের জন্য ০.৫, ১৮ মাসের জন্য ১.৫ লিখুন।
বেশিরভাগ ব্যাংক রিডিউসিং ব্যালান্স ব্যবহার করে। কিছু এনজিও ও অ-ব্যাংক প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট রেট বলে। আপনার চুক্তিতে কোনটি লেখা, দেখে নিন।
ঋণের পরিমাণের শতাংশে। না থাকলে ০ রাখুন।

ফলাফল

মাসিক কিস্তি (ইএমআই)
—
ঋণের আসল—
মোট সুদ—
মোট পরিশোধ (আসল + সুদ)—
প্রসেসিং ফি—
ফিসহ মোট খরচ—
প্রকৃত বার্ষিক সুদের হার—
বছরভিত্তিক পরিশোধের হিসাব
বছরআসলসুদবকেয়া

এটি আনুমানিক হিসাব। ব্যাংকের দিনভিত্তিক সুদ গণনা, বিমা ও অন্যান্য ফি-র কারণে প্রকৃত কিস্তি সামান্য আলাদা হতে পারে।

ইএমআই কী

ইএমআই (ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট) হলো ঋণ শোধের জন্য প্রতি মাসে একই অঙ্কের কিস্তি। প্রতিটি কিস্তির একটি অংশ আসল ঋণ শোধ করে, বাকিটা সুদ। শুরুতে বকেয়া বেশি থাকায় কিস্তির বড় অংশ যায় সুদে, সময়ের সাথে আসলের অংশ বাড়ে। ওপরের "বছরভিত্তিক পরিশোধের হিসাব" খুললে এটা নিজের চোখে দেখা যাবে।

ইএমআই কীভাবে হিসাব হয়

ইএমআই = P × r × (১ + r)n ÷ [(১ + r)n − ১]
P = ঋণের আসল, r = মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০), n = মোট কিস্তির সংখ্যা (মাস)

উদাহরণ

১০,০০,০০০ টাকা ১২% সুদে ৫ বছরের জন্য নিলে (রিডিউসিং ব্যালান্স) মাসিক কিস্তি হয় প্রায় ২২,২৪৪ টাকা। ৬০ কিস্তিতে মোট পরিশোধ প্রায় ১৩,৩৪,৬৬৭ টাকা, অর্থাৎ সুদ লাগে প্রায় ৩,৩৪,৬৬৭ টাকা।

ফ্ল্যাট রেট বনাম রিডিউসিং ব্যালান্স

একই "১২%" শুনতে এক হলেও দুটি পদ্ধতিতে খরচ আকাশ-পাতাল তফাত।

রিডিউসিং ব্যালান্সফ্ল্যাট রেট
সুদ কীসের ওপরপ্রতি মাসে বকেয়া আসলের ওপরশুরুর পুরো আসলের ওপর, শেষ পর্যন্ত
সুদ কীভাবে কমেআসল শোধ হলে সুদও কমেকমে না
১০ লাখ, ১২%, ৫ বছরে কিস্তিপ্রায় ২২,২৪৪ টাকা২৬,৬৬৭ টাকা
প্রকৃত বার্ষিক হার১২%প্রায় ২০.৩%

ফ্ল্যাট রেটে ঋণ নিলে ক্যালকুলেটরের "প্রকৃত বার্ষিক সুদের হার" লাইনটি দেখুন। ব্যাংকের হারের সাথে তুলনা করতে হলে এই অঙ্কটিই ধরা উচিত।

ঋণ নেওয়ার আগে যা দেখবেন

  • সুদের ধরন: ফ্ল্যাট না রিডিউসিং, চুক্তিতে লেখা আছে কি না।
  • হার স্থির না পরিবর্তনশীল: ভাসমান হারে কিস্তি বাড়তে পারে।
  • অন্যান্য খরচ: প্রসেসিং ফি, বিমা, ভ্যাট, আগাম শোধের জরিমানা।
  • কিস্তি আয়ের কত অংশ: একটি সাধারণ নিয়ম হলো মাসিক সব ঋণের কিস্তি মিলিয়ে আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি না হওয়া ভালো।
  • আগাম শোধের সুযোগ: আগে শোধ করলে সুদ বাঁচে, কিন্তু কিছু ঋণে ফি লাগে।
  • লাইসেন্স: ঋণদাতা বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ মাইক্রোক্রেডিট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত কি না।

কিস্তির বোঝা কমানোর উপায়

  1. মেয়াদ বাড়ালে কিস্তি কমে, কিন্তু মোট সুদ বাড়ে। ক্যালকুলেটরে দুটি মেয়াদ বসিয়ে তুলনা করুন।
  2. বেশি ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণের আসল কমান।
  3. একাধিক ব্যাংকের হার ও ফি তুলনা করুন।
  4. হাতে বাড়তি টাকা এলে আসল কিছুটা আগাম শোধ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

মেয়াদ বাড়ালে কি লাভ?

মাসিক কিস্তি কমে, তাই মাসের বাজেটে সুবিধা। কিন্তু মোট সুদ অনেক বাড়ে। দুই বিকল্পের মোট সুদ পাশাপাশি দেখে ঠিক করুন।

ক্যালকুলেটরের কিস্তি ব্যাংকের কিস্তির সাথে না মিললে?

ব্যাংক দিনের হিসাবে সুদ ধরে এবং বিমা বা ফি যোগ করতে পারে। সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক। বড় পার্থক্য হলে ব্যাংকের কাছে হিসাবের বিবরণ চান।

ক্রেডিট কার্ডের কিস্তিও কি এভাবে হিসাব হয়?

না, ক্রেডিট কার্ডের নিয়ম আলাদা। এটি মেয়াদি ঋণের জন্য।

সুদের হার কত হলে ভালো?

হার বাজার ও ঋণের ধরনের ওপর নির্ভর করে। একই ধরনের ঋণে কয়েকটি ব্যাংকের হার তুলনা করুন এবং শুধু হার নয়, মোট খরচ দেখুন।

সূত্র

দাবিত্যাগ: এটি আর্থিক পরামর্শ নয়। বিস্তারিত দাবিত্যাগ পাতায়।

আরও ক্যালকুলেটর