টাকাহিসাবTakaHisab

সঞ্চয় ও বিনিয়োগ

ছাত্রদের জন্য সঞ্চয়ের সহজ উপায়

লেখক: টাকাহিসাব সম্পাদকীয় · প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬

পড়াশোনার সময় আয় কম, কিন্তু সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় নেই। ছোট অঙ্কেও নিয়মিত জমালে কয়েক বছরে মোটামুটি একটা পুঁজি হয়ে যায়, আর অভ্যাসটা সারাজীবন কাজে লাগে।

ছোট অঙ্কের শক্তি

মাসে মাত্র ৫০০ টাকা জমালেও লাভ আছে। ধরুন ৮% সুদে, ত্রৈমাসিক হারে সুদ যোগ হয় এমন ডিপিএসে ৩ বছর (৩৬ মাস) জমালে:

  • মোট জমা: ১৮,০০০ টাকা
  • মেয়াদ শেষে প্রায় ২০,৩৮৬ টাকা
  • সুদ প্রায় ২,৩৮৬ টাকা

অঙ্কটা ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু আসল লাভ হলো অভ্যাস। আয় বাড়লে অঙ্ক বাড়ানো সহজ। (হিসাবটি উদাহরণ, কর ও ব্যাংকের নিয়ম ধরা হয়নি।)

পাঁচটি কাজের উপায়

  1. আয়ের একটা অংশ আগেই আলাদা করুন। টিউশনি বা বাসা থেকে হাতখরচ পেলে আগে নির্দিষ্ট অঙ্ক সরিয়ে বাকিটা খরচ করুন।
  2. ছাত্র বা অল্প অঙ্কের সঞ্চয় স্কিম খুঁজুন। অনেক ব্যাংকে কম অঙ্কে শুরু করা যায় এমন স্কিম থাকে। শর্ত, ন্যূনতম অঙ্ক ও সুদের হার ব্যাংকে জেনে নিন।
  3. খরচ লিখে রাখুন। এক সপ্তাহ সব খরচ লিখলে কোথায় টাকা যায় বোঝা যাবে, যেমন ডেলিভারি অ্যাপ, রাইড বা সাবস্ক্রিপশন।
  4. ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। নতুন ল্যাপটপ, কোর্সের ফি বা ঘুরতে যাওয়ার মতো লক্ষ্যে টাকা জমানো সহজ হয়।
  5. জরুরি তহবিল রাখুন। অন্তত এক মাসের প্রয়োজনের খরচ আলাদা রাখুন, যাতে হঠাৎ দরকারে সঞ্চয় ভাঙতে না হয়।

কোথায় জমাবেন

উপায়কেমন
ব্যাংকের সঞ্চয় হিসাবযখন খুশি তোলা যায়, সুদ কম
ডিপিএসমাসিক কিস্তিতে জমানোর অভ্যাস তৈরি হয়, সুদ বেশি
এফডিআরএকসাথে টাকা থাকলে, যেমন বৃত্তির অঙ্ক

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সাথে যৌথ হিসাব লাগতে পারে। ব্যাংকে জিজ্ঞাসা করুন।

যা এড়িয়ে চলবেন

  • "দ্রুত বড় লাভ" বা "টাকা দ্বিগুণ" এর প্রলোভন। ডাবল টাকার প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগই প্রতারণা। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখবেন না।
  • ধারে কেনাকাটা। কিস্তিতে ফোন বা গ্যাজেট কেনার আগে মোট খরচ হিসাব করুন।
  • সব টাকা একজায়গায় ঝুঁকিতে রাখা। নতুন শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পথই ভালো শুরু।

সংক্ষেপে

বড় অঙ্ক নয়, নিয়মিত অভ্যাস মূল কথা। আজই একটি ছোট অঙ্ক ঠিক করুন, ডিপিএস ক্যালকুলেটরে দেখুন কয়েক বছরে কত হয়, তারপর শুরু করুন।

সংশ্লিষ্ট ক্যালকুলেটর

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। দাবিত্যাগ দেখুন। আমরা কীভাবে তথ্য যাচাই করি, তা জানতে সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।