ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম: কী কাগজ লাগে ও কোন হিসাব বেছে নেবেন
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা মানে টাকা নিরাপদে রাখা, বেতন বা প্রবাসী আয় পাওয়া এবং ঋণ ও সঞ্চয় স্কিমে ঢোকার প্রথম ধাপ। নিয়ম ব্যাংকভেদে কিছুটা আলাদা, তাই এখানে সাধারণ ধারণা দিলাম। খোলার আগে আপনার ব্যাংকের শাখায় জেনে নিন।
কোন ধরনের হিসাব
| হিসাব | কার জন্য | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| সঞ্চয়ী (সেভিংস) | ব্যক্তিগত সঞ্চয় | সুদ পাওয়া যায়। তোলার সংখ্যায় সীমা থাকতে পারে |
| চলতি (কারেন্ট) | ব্যবসা, বারবার লেনদেন | চেকে লেনদেন সহজ, সাধারণত সুদ কম বা নেই |
| বেতন হিসাব | চাকরিজীবী | প্রতিষ্ঠান সরাসরি বেতন দেয়, কিছু ব্যাংকে সুবিধা বেশি |
| ডিপিএস / এফডিআর | নির্দিষ্ট মেয়াদের সঞ্চয় | বিস্তারিত ডিপিএস বনাম এফডিআর গাইডে |
| ছাত্র বা অল্প অঙ্কের হিসাব | শিক্ষার্থী, কম আয়ের মানুষ | ন্যূনতম অঙ্ক কম, শর্ত আলাদা |
সাধারণত কী কাগজ লাগে
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি (এনআইডি)। প্রবাসী বা বিদেশির জন্য পাসপোর্ট।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি, সাধারণত নিজের ও নমিনির।
- নমিনির নাম, সম্পর্ক ও পরিচয়ের কাগজ।
- টিআইএন সনদ, বিশেষ করে বড় অঙ্কের বা নির্দিষ্ট ধরনের হিসাবে। টিআইএন নেওয়ার নিয়ম দেখুন।
- পেশা ও আয়ের উৎসের তথ্য। কিছু ক্ষেত্রে বেতনের সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স।
- ঠিকানার প্রমাণ, যেমন ইউটিলিটি বিল।
- ন্যূনতম প্রাথমিক জমা।
অনেক ব্যাংক এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ই-কেওয়াইসি) অ্যাপ বা শাখায় বায়োমেট্রিক যাচাই করে হিসাব খোলার সুযোগ দেয়। এটি সব ব্যাংকে একই রকম নয়।
ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্ট খোলা
- ব্যাংক ও হিসাবের ধরন ঠিক করুন।
- শাখা বা অ্যাপে আবেদন ফর্ম নিন এবং সব তথ্য এনআইডির সাথে মিলিয়ে পূরণ করুন।
- কাগজ ও ছবি জমা দিন এবং প্রয়োজনে বায়োমেট্রিক যাচাই করুন।
- প্রাথমিক জমা দিন।
- হিসাব নম্বর, চেক বই বা কার্ড, অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের তথ্য নিন।
খোলার আগে কী দেখবেন
- ন্যূনতম ব্যালান্স: রাখতে না পারলে জরিমানা বা চার্জ কাটতে পারে।
- বার্ষিক ও অন্যান্য ফি: কার্ড ফি, এসএমএস ফি, চেক বইয়ের চার্জ।
- সুদের হার ও কত পরপর যোগ হয়।
- শাখা ও এটিএম: আপনার এলাকায় কতটা সুবিধাজনক।
- অ্যাপ ও অনলাইন সেবা: ব্যবহার সহজ কি না।
- ব্যাংকের নির্ভরযোগ্যতা: বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত কি না।
নিরাপত্তার অভ্যাস
- পিন, ওটিপি ও পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না। ব্যাংক ফোনে এসব চায় না।
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল হিসাবের সাথে হালনাগাদ রাখুন, যাতে এসএমএস অ্যালার্ট পান।
- স্টেটমেন্ট মাঝেমধ্যে দেখে অপরিচিত লেনদেন খুঁজুন।
- দালালের কাছে এনআইডি, ছবি বা ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অনুমতি দেবেন না। আপনার নামের হিসাব অন্যের অপরাধে ব্যবহার হলে দায় আপনার ওপর পড়তে পারে।
সংক্ষেপে
প্রথমে উদ্দেশ্য ঠিক করুন, সঞ্চয় না লেনদেন, তারপর ফি ও শর্ত তুলনা করে হিসাব বেছে নিন।
সূত্র
প্রয়োজনীয় কাগজ ও ফি ব্যাংকভেদে বদলায়। আবেদনের আগে আপনার ব্যাংকের সর্বশেষ নিয়ম জেনে নিন।
সংশ্লিষ্ট ক্যালকুলেটর
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। দাবিত্যাগ দেখুন। আমরা কীভাবে তথ্য যাচাই করি, তা জানতে সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।